Thursday, 26 March 2015

অভিমান

তবু একদিন, মৌন মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেলে
দেখে নেবো- শেষবারের মতো-
সহস্র নিওনের আলো ভরা- এ অন্ধগলি,
সারসার ফ্লাইওভারের নিচে-
জমে থাকা ধূসর অন্ধকার,
হতাশা- বিষন্নতা ভরা চিলেকোঠা,
তিলেতিলে বেড়ে ওঠা দুর্ভিক্ষগ্রস্ত-
বোবা- বদ্ধ এ হাঁ-মুখ সংসার,
শেষ না হওয়া কিছু কবিতার শেষ দু-চরণ
তোমার জানালার পাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ
খুলে দিয়ে সখের বাহারি খাঁচার স্থবির দরজাটিকে--
রাজপথ- জনপদ পেরিয়ে-
হেঁটে যাবো মোহনার দিকে-
হঠাৎ উদ্ভাসিত- নক্ষত্রালোকিত আকাশের নিচে
যমুনার পাড় ধরে অনেকটা পথ--!!

বাতাসের হিমেল পরশে- চৈত্রের শেষে-
মেখে নেবো হাসনুহানার রাতজাগা হাসি
দেখে নেবো ধানের শীষের মধুকোষে
রাতের আঁধারে--
নিভৃতে মাতৃদুগ্ধের নিঃসরণ,
তীরে বাঁধা তরীটির- ঢেউয়ের সাথে
রহস্যাবৃত- গভীর আলাপন,
আরেকটু দুরে- বনের প্রান্তরে-
একদল হরিণীর ত্রস্ত পথচলা,
ঘুমভাঙা কোকিল- ডাহুক- চাতকের
উদাসী সুরের কথামালা-!
অনেকটা ঘাসমাখা সোঁদাপথ মাড়িয়ে-
পৌঁছে যাবো মোহনার সম্মুখে-
ওইখানে বাতাসে আছে মিশে-
মানব-মানবীর প্রথম প্রকাশ-
ভালোবাসা বিশ্বাস-অবিশ্বাস---,
নিঃসঙ্গ বিস্তীর্ণ বালুকাবেলায়-
পড়ে আছে কত গল্পকথা-
আশা-হতাশা ভরা প্রেম-অপ্রেমের-
সহস্র কবিতা- নুড়ি পাথরের মতো-,
এলিয়ে পড়ে আছে--
কিছু সুখানুভূতি - কিছু অব্যক্ত ব্যাথা--!

কিছুটা সময়- ওইখানে বসে--
দেখে নেবো -একদিন তোমার ফেলে যাওয়া-
কিছুটা হাসি- ভালোলাগা-
রাগ- অভিমান - দুঃখ- ঘৃণার-
ঝিনুকের বিবর্ণ কিছু খোল-!
কল্পনায় শেষবার প্রতিবিম্ব রাঙিয়ে-
আচমনে - দেহে-মনে--
ছিটিয়ে নেবো- দু-আঁজলা জল-!
তারপর, সূর্যদয়ের পথ ধরে-
হেঁটে যাবো দুরে-- বহুদুরে--
ঝোলার অভ্যন্তরে-
তবু মায়ায় কোড়ানো কিছু নীলাভ পাথর-
ছুঁড়ে দেবো গভীর অভিমানে- সঙ্গমের জলে--
কোনোদিন ফিরিবো না আর-- এই বলে--!!